জেনে নিন চিনির পাইকারি ব্যবসা করার নিয়ম

জেনে নিন চিনির পাইকারি ব্যবসা করার নিয়ম


সাধারণত জীবনে সফল হতে গেলে পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে যদি কারো চাকরি না থাকে তাহলে অনেকে আছেন যারা জীবনটাই বৃথা মনে করে থাকেন। আপনি চাইলে চাকরির পাশাপাশি কিছু ভালো ব্যবসাতে মনোনিবেশ করতে পারেন। 

তাছাড়া অনেকই চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করে জীবনের সাফল্য অর্জন করেছে। তবে ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই নিজের ভেতরে ব্যবসায়ীক বিচার-বুদ্ধি থাকাটা খুবই জরুরী। তা না হলে আপনি ব্যবসাক্ষেত্রে অনেক ধরনের বিপদে পড়বেন। 


তাই আমি আজকে আপনাদেরকে এমন একটি ব্যবসা আইডিয়া সম্পর্কে বলবো যে এই ব্যবসাটি আপনারা পড়াশোনা বা চাকরির পাশাপাশি করতে পারবেন। সেটি হচ্ছে চিনির  ব্যবসা। তাহলে চলুন দেরি না করেই জেনে নেওয়া যাকঃ


চিনির পাইকারি ব্যবসা 



আপনারা হয়তো চিনির ব্যবসার কথাটা শুনে এক্সভিদে অবাক হবেন। যে চিনির ব্যবসাতে কি এত পরিমান লাভ করা সম্ভব। কিন্তু এই কথাটা বাস্তব আপনি যদি মনে করেন চিনির ব্যবসা করে প্রতিদিন ৩০০০ থেকে ৪০০০ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।


তাছাড়া অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা চিনির ব্যবসা করে জীবনে সফল হয়েছেন।তাই বলা যায় এই ঘটনাটা একেবারে বাস্তব।


সাধারণত যারা চিনির ব্যবসা করে থাকেন তারা অনেকে ক্ষয়ক্ষতির কবলে পড়ে থাকেন।আর এদের মধ্যে বেশিরভাগ তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যারা চিনি তৈরির সঠিক কারখানার ঠিকানা জানে না।


আপনি যদি এই ক্ষেত্রে চিনি তৈরির কারখানা অর্থাৎ যেখান থেকে চিনি উৎপাদন করা হয় সেখান থেকে চিনি ক্রয় করে খুচরা এবং পাইকারি দরে বিক্রি করেন তাহলে এখান থেকে আপনি প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন।


আপনি এই ক্ষেত্রে সমস্ত ধরনের ট্রান্সপোর্ট খরচ নিয়ে   প্রতি কেজি চিনি ৩০ টাকায় কিনতে পারবেন। আপনি এখান থেকে চিনি কিনে বাজারে সেগুলো বিক্রি করতে পারবেন ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজি দরে।তাহলে এখানে আপনি যদি ১০০ কেজি চিনি এই দামে বিক্রি করতে পারেন তাহলে প্রতিদিন আপনার ইনকাম হবে ১২০০ টাকা।


 যত বেশি বিক্রি করতে পারবেন তত ইনকাম হবে এক্ষেত্রে আপনার। যা সাধারনত অনেক ব্যবসার থেকে এটি সহজ।তাই আপনি যদি পড়াশোনা বা কাজের পাশাপাশি কোন ব্যবসা করতে চান তাহলে সরাসরি শ্রেণির ব্যবসায় যুক্ত হতে পারেন। চিনির পাইকারি ব্যবসা করে অনেক ব্যবসায়ী জীবনে সফল হয়েছেন। 


চিনি পাইকারি কোথায় পাবেন 



খুচরা চিনি বিক্রি করার ফলে পাইকারি ভাবে চিনি বিক্রি করলে অনেক বেশি লাভবান হওয়া যায়। অনেকে চিনি কোথায় থেকে নিবেন সেটা খুঁজে বের করতে পারে না এবং সঠিক জায়গা তারা পাননা।


যার ফলে তারা এই ব্যবসায় লাভের চেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকেন বেশি। আপনি চাইলে আপনি যে এলাকাতে চিনির পাইকারি ব্যবসা করতে চান তার আশেপাশে চিনি উৎপাদনের কারখানাগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেন বা বাইরে কোথাও থেকে কম দামে চিনি পাইকারিভাবে কিনে আনতে পারেন।


ডিমের পাইকারি বাজার থেকে আপনি যদি চিনি কেনেন তাহলে অনেক কম রেটে পাবেন এবং যদি আপনি কারখানা থেকে কিনতে পারেন তাহলে আরো অনেক কম হয়ে যাবে দাম। তাই সবথেকে ভালো হয় যদি আপনার এলাকার আশেপাশে কোন চিনি উৎপাদনের কারখানা থাকে সেসব জায়গা থেকে নিতে পারেন।


চিনির পাইকারি ব্যবসায় লাভ কেমন 



চিনির পাইকারি ব্যবসা করার মাধ্যমে আপনি চাইলেই খুব সহজে ভালো পরিমাণে লাভ করতে পারবেন। কেননা প্রতিনিয়ত মানুষের চিনি লাগে আর তারা কোন না কোন জায়গা থেকে চিনি ক্রয় করে থাকে। 


ধরুন আপনি কোন একটি কারখানা থেকে ৩০ টাকা পাইকারি দরে ১০০ কেজি চিনি ক্রয় করলেন।আপনি এবার এই ১০০ কেজি চিনি ৪২ টাকা বা ৪০ টাকা দরে বাজারে বিক্রি করলেন।তাহলে এই ক্ষেত্রে আপনার লাভের পরিমাণ দাঁড়াবে ১০০০ টাকার কাছাকাছি। 


আপনি যত বেশি চিনি কিনতে পারবেন এবং যত বেশি বিক্রি করতে পারবেন আপনার লাভের পরিমাণ ততো বেশি বৃদ্ধি পাবে। তাই বুঝতে পারছেন চিনির ব্যবসায় লাভ কেমন। 



পরিশেষে,চিনির ব্যবসা অন্যান্য ব্যবসার থেকে প্রকৃতপক্ষে অনেক সহজ একটি ব্যবসা পদ্ধতি।তাছাড়া এই ব্যবসায় অন্যান্য ব্যবসার থেকে ঝুঁকির সম্ভাবনা অনেক কম।তাই আপনারা চাইলে পড়াশোনা বা চাকরির পাশাপাশি এই চিনির ব্যবসা করে নিজেকে সফল ব্যবসায়ী তে পরিণত করতে পারেন। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন