জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম ২০২২


জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম অনেকেই জানেন না। কিন্তু যাদের জমি রয়েছে তাদের অবশ্যই জমির খাজনা দেওয়া লাগে। কিন্তু বিপত্তিটা ঠিক তখনই পাবেন যখন জমির খাজনা দিতে গিয়ে দিতে পারেন না। 


তাই অবশ্যই আমাদের কিভাবে জমির খাজনা দিতে হয় এবং জমির খাজনা দেওয়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জানা জরুরী। বেশিরভাগ সময়ই যারা খাজনা পরিশোধ করে থাকেন তারা অনেকেই ভূমি অফিসে গিয়ে খাজনা দিয়ে থাকেন।



যারা ভূমি অফিসে গিয়ে খাজনা দিয়ে থাকেন তারা অনেক ভোগান্তির শিকার হয়ে থাকেন বা অনেক ঝামেলার মনে করেন এই কাজটাকে।তাই অনেকেই এমন কোনো উপায় খুঁজে থাকেন যে উপায়ে টির মাধ্যমে ঘরে বসে খাজনা পরিশোধ করা যায় । আজকের পোস্টের মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে বলবো কিভাবে খুবই দ্রুত সময়ের মধ্যে খাজনা পরিশোধ করতে পারবেন। অর্থাৎ আজকের পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কেঃ-



অন্য পোস্টঃদাগ নাম্বার দিয়ে জমির মালিকের নাম বের করার নিয়ম 

জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম


যারা জমির জন্য খাজনা দিতে চান তারা দুইটি উপায় বর্তমানে জমির জন্য খাজনা দিতে পারবেন। বাংলাদেশে বসবাসরত যেকোনো ব্যক্তি এই উপায়টি অবলম্বন করে খুব সহজেই খাজনা পরিশোধ করতে পারবেন। 



খাজনা পরিশোধ করার জন্য সরাসরি ভূমি অফিসে যেতে পারেন অথবা ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে জমির খাজনা দিতে পারেন।এই দুইটি উপায় অবলম্বন করে খুব সহজেই খাজনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে। তাহলে চলুন এর আগে জেনে নেওয়া যাক জমির খাজনা না দিলে কি হয়।



জমির খাজনা না দিলে কি হয়


অনেকে নির্দিষ্ট সময় পর খাজনা পরিশোধ করতে চায়না। আবার তাদের মধ্যে এমন অনেক লোক রয়েছে যারা ইচ্ছা করে জমির খাজনা দেয় না। কোন ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমির খাজনা পরিশোধ করে না থাকেন তাহলে তার প্রতি সার্টিফিকেট মামলা হতে পারে। তাই অবশ্যই নিজের নামে জমি জমা থাকলে তার জন্য নিয়মিত করতে হবে।



বর্তমানে জমির খাজনা দেয়া অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে আপনারা চাইলে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ভূমি অফিসে গিয়ে সরাসরি খাজনা পরিশোধ করতে পারেন। যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছা করে জমির খাজনা বা কর না দিয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা করার পর তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণ দিয়ে জমির খাজনা মওকুফ করতে হয় তারপর এসে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। তাই অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের আগেই জমির খাজনা বা জমির কর পরিশোধ করতে হবে। 

তাই অবশ্যই জমির কর কখনো বাকি রাখা যাবে না। 



জমির খাজনা দিতে কি কি কাগজ লাগে


জমির খাজনা দেওয়ার আগে অবশ্যই আপনাদের এই বিষয়টা জেনে রাখা উচিত যে জমির খাজনা দিতে কি কি কাগজ লাগে।জমি থাকলে জমির খাজনা দিতে হবে বর্তমান সময়ে এটি নিয়ম। তাছাড়া এই নিয়মটি অনেক আগে থেকে হয়ে আসছে। যারা নিয়মিত খাজনা প্রদান করে থাকেন তাদের জমির প্রতি দাবি টা বেশি হয়ে থাকে।



জমির খাজনা দেওয়ার জন্য তেমন বেশি ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয়না আপনি দাগ নাম্বারটা বললেই অনেক ক্ষেত্রে হয়ে যায়। 



জমির খাজনা কোথায় দিতে হয়


জমির খাজনার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আপনারা সরাসরি নিকটবর্তী ভূমি অফিসে গিয়ে জমির খাজনা দিতে পারেন। তাছাড়া বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমেও জমির খাজনা দেওয়া হয় যাচ্ছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়াটা অনেকেই জানেন না যার কারণে ভূমি অফিসে গিয়ে খাজনা দেওয়া যেতে পারে। 



তাছাড়া আপনার খাজনা দিতে গিয়ে যদি কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন তাও আপনারা ভূমি অফিস থেকে জেনে নিতে পারবেন।যার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই ভূমি অফিসে গিয়ে সরাসরি খাজনা দিয়ে থাকেন।জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম গুলোর মধ্যে এই নিয়মটি খুবই সহজ। 




জমির খাজনা কত টাকা শতক


যারা খাজনা দিতে চান তাদের অবশ্যই জমির খাজনা কত টাকা শতক সেটা সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। তাহলে জমি হিসাবে কত টাকা খাজনা দিতে হবে সেটা খুব সহজেই বের করা সম্ভব হবে।বর্তমানে জমির খাজনা ১০ একর হতে ১৫ একর পর্যন্ত প্রথম ১০ একর এর জন্য ২৩১ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি শতাংশ জন্য ৬০ পয়সা করে এসব করা হয়ে থাকে।


তাছাড়া ১৫ একর থেকে ২৫ একর এর জন্য প্রথম ১৫ একর এর জন্য ৫৩১ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি শতাংশের জন্য ৬০ পয়সা হিসাব করা হয়ে থাকে। যাদের জমি ২৫ একরের বেশি হয়ে থাকে তাদের ২৫ একর এর জন্য ১৪৮১ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি শতাংশে জন্য ১ টাকা ৪৫ পয়সা হিসাবে ধরা হয়ে থাকে।



অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম


বর্তমান সময়ের ভূমি অফিস গুলোতে দুর্নীতি ও অনিয়মের হার যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাছাড়া সেখানে খাজনা দিতে গেলে অনেকেই অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। 


ভূমি অফিসের দালালদের কাছ থেকে অনেকে প্রতারিত হয়ে থাকেন। তাই যারা এই সকল ভোগান্তি গুলো থেকে রক্ষা পেতে চান তারা চাইলে অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করতে পারেন।


যারা অনলাইনের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধ করতে চান তাদেরকে অবশ্যই ওয়েব সাইটে সাইন আপ করতে হবে।আপনি যখন ওয়েবসাইটটিতে সাইন আপ হয়ে যাবেন তখন জমির পরিমাণ এবং কত টাকা খাজনা লাগবে সেটা সেখান থেকেই দেখতে পারবেন।



যারা অনলাইনের মাধ্যমে খাজনা দিতে চান তারা প্রথমে https://eporcha.gov.bd/khatian-search-panel সরাসরি এই লিংকটা ব্যবহার করে ভূমি উন্নয়ন এর ওয়েবসাইটে চলে যাবেন। তারপরে এখান থেকে আপনারা হোমে চলে যাবেন এবং হোমে গিয়ে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর বাটনটিতে ক্লিক করবেন।





এখান থেকে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর বাটন সিলেক্ট করলে আপনাদের সামনে আরেকটি নতুন পেজ চলে আসবে। 





তারপর এখানে মোবাইল নাম্বার, জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার এবং জন্ম তারিখ উল্লেখ করে পরবর্তী পদক্ষেপ বাটনে ক্লিক করতে হবে। 



পরবর্তী বাটনে ক্লিক করার পর আপনার আইডি কার্ডের তথ্য এখানে দেখতে পারবেন। এবার আপনাদেরকে পরবর্তী পদক্ষেপ এ ক্লিক করতে হবে এবং আপনাদের মোবাইলে যে নাম্বারটি দিয়েছিলেন সেখানে একটি ওটিপি কোড যাবে। এবার আপনাদেরকে এই স্থানে ওটিপি কোড বসাতে হবে।



ওটিপি কোড দেওয়া হয়ে গেলে আবার যাচাইকরণ বাটনে ক্লিক করতে হবে। তারপরে আপনাদের সামনে আরেকটি এমন পেজ আসবে। এখানে আপনাদেরকে পাসওয়ার্ড দিতে হবে এবং পাসওয়ার্ড নিশ্চিত করতে হবে। তারপরে সংক্ষেপ করুন বাটনে ক্লিক করতে হবে। 



তারপরে আপনাদেরকে প্রোফাইল এবং খতিয়ান আপডেট করতে হবে। এর জন্য আপনাদেরকে সরাসরি প্রোফাইলে ক্লিক করতে হবে। প্রোফাইলে ক্লিক করার পর আপনাদের সামনে এরকম একটি পেজ আসবে।এখান থেকে আপনাদেরকে সঠিক তথ্য নিয়ে প্রোফাইল টা আপডেট করে ফেলতে হবে। 



এবার সরাসরি খতিয়ান অপশনে চলে যেতে হবে। খতিয়ান এ ক্লিক করার পরপরই আপনাদের সামনে আরেকটি পেজ চলে আসবে এবং এখানে আপনারা অনেক তথ্য দেখতে পারবেন। এখানে যা যা তথ্য চাইবে সকল তথ্য আপনাদের কে সঠিকভাবে দিতে হবে। অর্থাৎ এখানে খতিয়ান নাম্বার বাড়ির হোল্ডিং নাম্বার এবং মৌজা নাম্বার অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। সবকিছু দেওয়া হয়ে গেলে সংরক্ষন করুন বাটনে ক্লিক করতে হবে ।তাছাড়া এখান থেকে আপনারা খতিয়ান নাম্বার  ডকুমেন্ট সহ ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। 




যেহেতু আমরা জমির খাজনা পরিশোধ করতে চাচ্ছি তাই এবার আমাদেরকে পেমেন্ট অপশনে চলে যেতে হবে। নাগরিক কর্নার  থেকে আপনাদেরকে পেমেন্ট করুন বাটনটি ক্লিক করতে হবে। তারপরে আপনাদের সামনে আরেকটি পেজ আসবে এবং এখানে বলা হবে বিভাগ নির্বাচন করুক এবং আরও কিছু তথ্য চাইবে।এখানে সমস্ত তথ্য দেয়ার পর অনুসন্ধান করুন বাটনে ক্লিক করতে হবে। 



অনুসন্ধানে ক্লিক করার পর আপনাদের সামনে এরকম আরেকটি পেইজ আসবে। 





এখানে আপনারা মালিকের নাম সহ আরও অনেক তথ্য দেখতে পারবেন। এবার এখানে এনআইডি কার্ড যাচাই করার একটি অপশন রয়েছে তাই এনআইডি কার্ড যাচাই করে ফেলতে হবে। এর জন্য আপনাদেরকে এনআইডি কার্ড যাচাই বাটনে ক্লিক করতে হবে। 



তারপরে এনআইডি কার্ড যাচাই করার একটি অপশন আসবে এবং সেখানে এনআইডি নাম্বার এবং বয়স উল্লেখ করতে হবে। তারপরে আপনাদেরকে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করতে হবে। 





এখানে আপনাদেরকে আরেকটি পেজে নিয়ে আসা হবে এবং আপনার কতটুকু জমি আছে এবং কোন তাকে কতটুকু জমি রয়েছে সবকিছুই এখান থেকে দেখতে পারবেন। আপনি যদি অনেকদিন ধরে খাজনা না দেন তাহলে এখান থেকে দেখতে পারবেন। এবার আপনাদেরকে নিজ থেকে অনলাইন পেমেন্ট অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে এবং যে পদ্ধতিতে পেমেন্ট করতে চান সেটি সিলেক্ট করতে হবে। 



তারপরে একক মালিক সিলেক্ট করে পেমেন্ট অপশনে ক্লিক করতে হবে এবং ই-পেমেন্ট যাচাই করুন অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে।



তারপরে বিকাশ নাম্বারটি দিতে হবে এবং সেখানে কোড সহ যাবতীয় কিছু কাজ করে নিন সেটআপ দেয়ার মাধ্যমে খুব সহজেই জমির খাজনার জন্য পেমেন্ট করা যাবে । তারপরে আপনাদেরকে একটি রশিদ দিবে এবং এই রশিদটি প্রিন্ট করে নিতে হবে অর্থাৎ এটি আপনার খাজনা রশিদ। 




শেষ কথা, আশা করি আজকের পোস্টটি যারা পড়েছেন তারা জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম বা অনলাইনের মাধ্যমে জমির খাজনা কিভাবে দিতে হয় এবং আরো অনেক বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তার পরেও যদি কোন বিষয় সম্পর্কে বুঝলেন কোন ধরনের অসুবিধা হয়ে থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন